জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ ইসমাইল হোসেন কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি সনদ ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন৤

জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ ইসমাইল হোসেন কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি সনদ ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন৤

চাষাবাদ মানবজীবনের অপরিহার্য অংশ। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশা। সূচনা থেকেই কৃষিকাজ বা চাষাবাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে চাষাবাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করা ।

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا)

মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি? তোমরা কি তাকে অঙ্কুরিত কর, না আমিই অঙ্কুরিত করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়-কুটা করে দিতে পারি।’’ (ওয়াক্বিয়াহ্ : ৬৩-৬৫)

‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোন জমি আবাদ করে, যা কারো মালিকানায় নয়, তাহলে সেই (মালিক হওয়ার) বেশী হকদার। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) তাঁর খিলাফতকালে এরূপ ফায়সালা দিয়েছেন।

সূরা নাহল-11
يُنبِتُ لَكُم بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالأَعْنَابَ وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্যে উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

সূরা আল আন-আম -141

وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ جَنَّاتٍ مَّعْرُوشَاتٍ وَغَيْرَ مَعْرُوشَاتٍ وَالنَّخْلَ وَالزَّرْعَ مُخْتَلِفًا أُكُلُهُ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ كُلُواْ مِن ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُواْ حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ وَلاَ تُسْرِفُواْ إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে-তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন-একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।
হজরত আদম (আ.)-কে আল্লাহ তায়ালা কৃষি কাজসহ অনেক বিষয়ে জ্ঞান দান করেন। উনার ওপর নাজিলকৃত ওহীর মধ্যে কৃষি বিষয়ক অনেক জ্ঞান, নির্দেশনা ছিল। হজরত নুহ আলাইহিস সালামের জাহাজ মহাপ্লাবনে জুদী পাহাড়ে গিয়ে ভিড়লে সেখানে জয়তুন নামে বৃক্ষের ফলন ঘটান। হজরত ইদ্রিস আলাইহিস সালাম মানুষকে কৃষিকাজের পদ্ধতি শিক্ষা দিতেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার দুই পুত্র মহান আল্লাহর নবী হজরত ইসহাক আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম কৃষিকাজ করতেন।  পবিত্র কোরানে এসেছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পরিবারকে ছেঁড়ে যাওয়ার সময় মহান আল্লাহর কাছে আরজি করেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমি আমার পরিবারের কিছু সদস্যকে তোমার মর্যাদাময় গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় বসবাসের জন্য রেখে যাচ্ছি। হে প্রভু! যাতে তারা সালাত কায়েম করে। কিছু লোকের অন্তরকে তুমি এদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও এবং তাদেরকে ফল-ফলাদি দ্বারা রুজী দান কর। আশা করি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ  করবে।’ (সূরা: ইবরাহীম, আয়াত: ৩৭) হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন রাসূল (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা খাদ্যশস্যের বীজ বপন করে অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি অথবা পশু কিছু অংশ খায় তবে তার জন্য এই কাজ (বীজ বপন) সাদাকাহ হিসেবে বিবেচিত হবে’ (বোখারী, মুসলিম)।কুরআন-হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম আলাইহস সালাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে এ নির্দেশনা মোতাবেক সব নবী-রাসুলগণ কৃষি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হজরত আদম, ইবরাহিম, লুত, শুআইব আলাইহিমুস সালামসহ সব নবী-রাসূলগণ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম পশুচারণ, দুধবিক্রি, কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

Leave a Reply